মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়

বাংলাদেশের মানচিত্রের ভিতরে দুটি ছোট গ্রাম বালালী ও বাঘমারা । বালালী ও বাঘমারা যদিও আলাদা দুটি গ্রামের নাম কিন্তু সুদূর অতীত কাল থেকে এই দুই গ্রামের মানুষ একই বৃন্তে বসবাস । বৃহত্তর ময়মনসিংহ এর নেত্রকোনা জেলায় মদন উপজেলায় ০৬নংতিয়শ্রীইউনিয়নেএর অবস্থান । বাংলাদেশের ইতিহাসে খ্যাত হাওড় বাওড় এলাকা হিসাবে চিহ্নিত এই বালালী বাঘমারা । বালালী বাঘমারার সামনে রয়েছে একটি বিরাট তলার হাওড়  যা কক্রবাজার সমুদ্র সৈকতের মত যার রুপ লাবন্য । তবে এলাকার আদি মানুষের মুখে শোনা যায় বালালী দক্ষিন পাশে সাহেব বাড়িতে ছিল এক কালো দিঘি যে দিঘিতে গোসল করলে কানা খোড়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষ ভাল হয়ে যেত । অত্রএলাকায়শিক্ষার অন্য কোন সুব্যবস্থা ছিল না প্রাথ্মিকশিক্ষারজন্য১৯৪৪ সনেবালালীগ্রামেরএকভদ্রলোকযারনামহাজীআফিজউদ্দিনউনারএকমেয়েগুজাদিয়াগ্রামনিবাসীআবদুলমান্নাননামেরএকব্যক্তিরনিকটবিয়েহয়।উনারলেখাপড়াছিল৮মশ্রেণীপর্যন্ত।উনারশ্বশুরেরকোনপুত্রসন্তাননাথাকায়তিনিশ্বশুড়বাড়ীতেচলেআসেন।কয়েকবছরপর   ১৯৪৯ সনে জনাব আব্দুলমান্নান,জনাবআবদুলবারী,জনাব খোরশেদ উদ্দিনচৌধুরী, জনাব জহুরউদ্দিনমাষ্টার,জনাবখোরশেদউদ্দিনতালুকদার,জনাবআব্দুল মান্নান ,জনাবআসকরআলীতালুকদার, জনাবসৈয়দহোসেন,জনাবএকরামহোসেনতালুকদার,জনাবক্বারীহোসেনতাং, আবদুলমন্নাফচৌধুরী, জনাবফরিদহোসেনতাং, জনাবরাজআলীখা,জনাবহাবিবুররহমানতালুকদার, জনাব মোক্তারউদ্দিনতাং, জনাবমনজিলখান,  জনাব সওয়াব আলী , জনাবরমজানআলীতাং, জনাবআলীতাং,জনাবস্বাক্ষরআলীতাং,জনাবআহেদআলীতাংজনাবউমরআলীতাং,ডাঃআবদুলআজীজপ্রমূখমুরুব্বীয়ানমিলে  একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন  অনেক ঘাত প্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে যখন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতেছিল ঠিক এমনি মুহুর্তে ১৯৫২ সালে নেত্রকোনা মহুকুমার এস,ডি,ই,ও সাহেব বর্ষার দিনে লঞ্চ নিয়ে আসেন এলাকা পরিদর্শনে । প্রাকৃতিক অবস্থার কারনে উনি আশ্রয় নেন বালালী গ্রাম নিবাসী জনাব একরাম হোসেন তালুকদার সাহেবের বাড়িতে  যাওয়ার পথে লঞ্চ আটকে যায় পানিতে ডুবানো এক মাটির টিলায় । তিনি কঠিন অবস্থার সম্মূখীন হন। এই অবস্থা দেখে বালালীর কয়েকজন সাধারন মানুষ পানিতে নেমে টিলা থেকে লঞ্চ নামিয়ে দেন । ফলে এস,ডি,ই,ও সাহেব অত্যন্ত খুশি হন । এলাকার মানুষের ব্যবহার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য তাকে মুগ্ধ করে তোলে । এর ফলে ১৯৫৪ ইং সালে বালালী বাঘমারা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মঞ্জুরি পেল । এলাকার মানুষ প্রাথমিক শিক্ষার একটি সুযোগ পেল । ঠিক এই সময় বাঘমারা নিবাসী জনাব ইসহাক তালুকদার চাকুরিরত ঐ শিক্ষা বিভাগে, ১৯৫৮ ইং সালে আইয়ূব শাসন তথা সামরিক শাসন শুরুর সময়ে দেশে নির্বাচন  এলে এলাকাবাসী জনাব ইসহাক তালুকদারকে চাকরি ছেড়ে ইউনিয়নপ্রেসিডেন্টপদে নির্বাচন করতে বাধ্য করেন। খোদার অশেষ রহমতে তিনি ইউনিয়নপ্রেসিডেন্টহন । তাই ইউনিয়নপ্রেসিডেন্টসাহেবের নজর পড়ে  এলাকার উন্নয়নে । বালালী বাঘমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উনার নেতৃত্বেওউপরেউল্লেখিতমুরুব্বিদের  সার্বিক সহযোগীতায়  প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করে । উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন আটপাড়া উপজেলার দূর্গাশ্রম গ্রামের জনাব নঈম উদ্দিন আহম্মদ সাহেব । কিছু দিন শিক্ষকতা করার পর তিনি অত্র এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শূন্যতা উপলব্ধি করেন এলাকার মানূষের কাছে বলতে থাকেন বালালী বাঘমারাতে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রয়োজন। জনাব নঈম আহম্মেদ সাহেব ধীরে ধীরে অত্র এলাকার মানুষের সাথে গণ সংযোগ আরম্ভ করেন  তখন ইসহাক তালুকদার  সাহেব বালালী বাঘমারার সকল মুরুববীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আহবান করেন । এলাকাবাসী অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেন । প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পূর্ব পাশে একটি পুকুর ছিল, পুকুরসহ আরও কিছু জায়গা বালালী নিবাসী  জনাব আসকর আলী তালূকদার শিক্ষার সুন্দর পরিবেশের জন্য জায়গাটুকু দান করেন। ১৯৬৪ সালে খুবই জরাজীর্ন পরিবেশে উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি টিন শেট ঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের গৃহে রপান্তরিত করে ইউনিয়ন পরিষদ এর একটি কক্ষকে অফিস কক্ষ করে বিদ্যালয়েরকার্যক্রম শুরু হয়। সেই সময়ে স্থানীয় শিক্ষক দড়িবিন্নীরআব্দুস সোবাহান খান হাসনপুর নিবাসী জনাব আব্দুল আহাদ তালুকদার ,বাস্তা নিবাসী জনাব সিরাজুল ইসলাম সাহেব বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে কার্যক্রম শুরু করেন  তাদের দ্বারা ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের কাজ চলতে থাকে । ১৯৬৯ ইং সালে ৯ম শ্রেনী খোলা হয়। ১৯৬৭ এবং ১৯৬৮ ইং সনে ইসহাকতাংসাহেব এবং বালালী গ্রাম নিবাসী জনাব বদর উদ্দিন খান সাহেব এলাকার মুরুববীদের নিয়ে পুকুরটি মাটি দ্বারা ভরাট করা হয়। সহযোগীতায় ছিলেন সর্বজনাবআঃমোতালিবতাং,†ফরদৌস উদ্দিন ভূইয়া,সাহেদআলীতাং,নুরুলইসলামখান, রুকনউদ্দিনআহমেদ,তৈয়বআলীতাং, আঃকরিমতাং, মোক্তারউদ্দিন, তাহেরউদ্দিনমাষ্টার, হাবিবুররহমানমাষ্টার, ফজলুলহকচৌধুরী, ফজলুলহকতাং, আঃরশিদচৌধুরী, মোসলেমউদ্দিনতাং,আহম্মেদতাং,আঃরাজ্জাকমেম্বার, আলীউসমানমেম্বার, নবাবমিয়া,খাজালীতাং,  প্রমূখ কয়েক জন গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ । এই মূহুর্তে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক চলে যান । নতুন প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন জনাব গিয়াস উদ্দিন , তিনিও বেশি দিন থাকতে পারেননি । তারপর প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত জনাব সিরাজুল ইসলাম । এই সময়ে বিদ্যালয়ে দশম শ্রেনী খোলা হয় । জনাব গিয়াস উদ্দিন সাহেবের সময়ে বিদ্যালয়ে একটি আধা পাকা গৃহ নির্মান  হয়। তখন ঐ গৃহেই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ স্থানারিত করা হয় । ১৯৭২ ইং সালে জনাব ইনছান উদ্দিন তালুকদার সাহেব প্রধান শিক্ষকভারপ্রাপ্তহিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন । তারপর ১৯৭৩ ইং সালে জনাব ইনছান উদ্দিন তালুকদার সাহেবের আমলেই সর্বপ্রথম এস এস সি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ্র গ্রহন করে। কালের চক্রে তিনিও বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেন । দায়িত্ব প্রাপ্ত হন জনাব ফজলুল হক চৌধুরী । তারপর ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক জনাব সৈয়দ আহম্মেদ হোসেন প্রধান শিক্ষক হিসাবে চেয়ারে বসেন । বিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্বারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে ।র্ তারপরজনাব সৈয়দ আহম্মদ হোসেন অবসর নেন । ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পান একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার ।এরপর প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন জনাব আক্কাছ উদ্দিন সাহেব । তিনি কিছু দিন চাকুরি করার পর   অন্যত্র চলে যান । আবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন জনাব ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার সাহেব । নব নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হন অত্র  এলাকার তরুন ব্যক্তিত্বজনাব শফিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং সদস্য পদে নির্বাচিত হন জনাব আবু হান্নান তালূকদার,জনাব হাফিজুর রহমান মিলন ,জনাব তোফায়েল আহ&&ম্মদ খান জনাবসামসুজ্জামান, মিসেসরেবেকাআক্তার। নতুন সভাপতি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষকের জন্য বিজ্ঞাপন দেন । এই বিজ্ঞাপনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার প্রধান শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেন । তখন সহকারী শিক্ষক জনাব আমিনুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব প্রদvন করা হয়। এই নিয়োগে জনাব ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান । ১৮-০৩-২০১২ ইং তারিখে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন । বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই ভাল । উপস্থিত সময়ে বিদ্যালয়ের দুই খানা দোতালা পাকা গৃহ , তিনটি আধা পাকাগৃহ পাঁচটি টয়লেট,দুটি নলকুপ আছে । পরবর্তী নিয়োগে জনাব আমিনুল ইসলাম সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান । লাইব্রেরীয়ান ,নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর সহ অনেক শিক্ষকমন্ডলী নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সামনে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । অত্রপ্রতিষ্ঠানেরসকল শিক্ষক ও কর্মচারীগনেরএকটাই লক্ষ্য বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয়কে নেত্রকোনা জেলার মধ্যে একটি আদর্শ বিদ্যাপিঠ হিসাবে চিহ্নিত করা । বালালীবাঘমারাউচ্চবিদ্যালয়েসভাপতিহিসেবেসর্বজনাবআঃমোতালিবতাং, রোকনউদ্দিনআহমেদ, তাহেরউদ্দিনমাষ্টার, আতাউররহমানপুতুল, ওফজলেরাব্বীসাহেববিভিন্নসময়েদায়িত্বপালনকরেছেনবিদ্যালয়েরউন্নয়নেতাদেরভূমিকাউল্লেখযোগ্য।  ,অত্র বিদ্যালয়েরসংসৃকৃতি ব্যক্তিত্ব বিদ্যালয়ের নিম্নমান সহকারী ও কাম-কম্পিউটার অপারেটর জনাব মোস্তাফা কামাল হিরনের ইচ্ছা বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় কম্পিউটারে স্থাপন করে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে উত্তরোত্তর এগিয়ে নেওয়া। বর্তমানে বালালী বাঘামার উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধির সম্মানিত সভাপতি জনাব শফিকুল ইসলাম চৌধুরী সাহেব আশা পোষন করেন এলাকার সর্ব শ্রেণীর মানুষের সহযোগীতা থাকলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে আরও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা যাবে। তাই তিনি সকল শ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। ।

নিবেদক

প্রধান শিক্ষক

বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় ।